অনলাইন ডেস্ক

মহাকাশে ঘূর্ণায়মান কোটি কোটি পাথরের মতো গ্রহাণু মানবজাতির জন্য শুধু রহস্য নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিপদের উৎসও হতে পারে। তবে সম্প্রতি নাসার এক অনন্য পরীক্ষা প্রমাণ করেছে, মানুষ যদি চায়, এই মহাজাগতিক পাথরের পথও সামান্য হলেও পরিবর্তন করতে পারে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নাসা ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট (ডার্ট) নামের একটি মিশন চালায়। এই অভিযানে একটি বিশেষ মহাকাশযান ছোট গ্রহাণু ডাইমরফোস–এর সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা খায়। ডাইমরফোস মূল গ্রহাণু ডিডিমোস–এর চারপাশে ঘুরছে, ফলে এরা একসাথে একটি ‘বাইনারি সিস্টেম’ তৈরি করেছে।
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ধাক্কার প্রভাব শুধুমাত্র ছোট গ্রহাণুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং পুরো গ্রহাণু জোড়ার সূর্যের চারপাশে ঘূর্ণায়মান কক্ষপথেও সামান্য পরিবর্তন এসেছে। বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেস–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সূর্যকে ঘিরে ৭৭০ দিনের কক্ষপথের সময় এক সেকেন্ডেরও কম পরিবর্তন হয়েছে।
গবেষকরা বলেন, এই পরিবর্তন যদিও খুব ছোট, তবুও এর গুরুত্ব কম নয়। ভবিষ্যতে যদি কোনো বিপজ্জনক গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে আসে, তাহলে মহাকাশযান দ্বারা এভাবে ধাক্কা দিয়ে তার পথ সামান্য বদলে দেওয়া সম্ভব। ধাক্কায় ডাইমরফোস থেকে প্রচুর পাথর ও ধুলো মহাকাশে ছিটকে যায়, যা গ্রহাণুর আকারে সামান্য পরিবর্তন আনে এবং ধাক্কার শক্তি আরও বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরীক্ষা প্রমাণ করেছে ছোট পরিবর্তনও দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পৃথিবীকে গ্রহাণুর সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


