বাসস

ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বারবার গণতন্ত্রকে ধ্বংসের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তারা জনগণের শক্তির কাছেই পরাজিত হবে। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু বিএনপির জয় নয়, এটি হবে গণতন্ত্রের জয়।
শনিবার সকালে ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজিত সাতদিনব্যাপী ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির শেষদিনের কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
আমীর খসরু বলেন, বিএনপি এই দেশে গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীর বাংলাদেশ গড়ার যে রূপরেখা ও স্বপ্ন দেখছেন, ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ কর্মসূচি তারই অংশ।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৫ তারিখে তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন বিএনপি ও জনগণের জন্য আনন্দের সংবাদ। তারেক রহমানকে ‘গণতন্ত্রের টর্চ বেয়ারার’ হিসেবে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, যার নেতৃত্বে জাতি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সফল হয়েছে, সেই নেতৃত্বেই দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে যাবে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে আমীর খসরু বলেন, এ ধরনের সহিংসতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতির ওপর হামলাসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, এমন সময়ে সহিংসতা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ‘মবোক্রেসির রাজনীতি’ দেখা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। অসম্মানজনক ও অশালীন ভাষা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানান তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসমান হাদিকে দেখতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের সমালোচনা করে বলেন, জনগণ এমন রাজনীতি দেখতে চায় না; জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
দেশ পরিচালনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা জরুরি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কর্মসংস্থানসহ আটটি খাতে কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বিষয়ে দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর জন্য ধারাবাহিক কর্মশালা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির শেষ দিনে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ওলামা দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন অংশ নেয়।


