অনলাইন ডেস্ক

২০২৫ সাল শেষ হতে আর কয়েক সপ্তাহ বাকি। তবে তার আগেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যাদের পারফরম্যান্স সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, তাদের নাম পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। এই তালিকায় আছেন ফুটবলার হামজা দেওয়ান চৌধুরী, হকি খেলোয়াড় আমিরুল ইসলাম, নারী ফুটবলার আফঈদা খন্দকার, এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। তাদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; প্রতিটি প্রাপ্তিই বাংলাদেশের খেলাধুলাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফুটবলে নতুন বাতাস: হামজা দেওয়ান চৌধুরী
২০২৫ সালে বাংলাদেশ ফুটবলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম নিঃসন্দেহে হামজা দেওয়ান চৌধুরী। ইউরোপে খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলে যোগ দিয়েই তিনি নতুন মাত্রা যোগ করেন। তাঁর নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা দলকে ইতিবাচক প্রভাবিত করছে।
-
মধ্যমাঠে তাঁর উপস্থিতি খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে
-
আন্তর্জাতিক ম্যাচে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে দেশের তরুণদের আদর্শে পরিণত করেছে
-
বিদেশে বেড়ে ওঠা হয়েও বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ জাগিয়েছে
হামজাকে ঘিরে দেশি–বিদেশি ফুটবল বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ক্রমেই বাড়ছে।
হকিতে এক নতুন তারকা: আমিরুল ইসলাম
বাংলাদেশ হকি দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতা থেকে বেরোতে চাইলেও বড় কোনো সাফল্য আসছিল না। সেই চক্রটা কিছুটা হলেও ভাঙার নায়ক হয়েছেন আমিরুল ইসলাম।
-
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাঁর গোল, গতি ও আক্রমণাত্মক ভূমিকা আলোচনায়
-
জাতীয় দলের আক্রমণভাগে নতুন শক্তি হিসেবে তাঁর অবদান
-
স্থানীয় লিগেও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে হকিতে নতুন দর্শক টানতে সক্ষম হয়েছেন
অনেকদিন পর হকিতে একজন খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে এত আলোচনা হওয়া খেলার ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নারী ফুটবলে ইতিহাস: আফঈদা খন্দকার
বাংলাদেশ নারী ফুটবলে ২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো—প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া। আর এই অর্জনের পেছনে অন্যতম মুখ আফঈদা খন্দকার।
-
তাঁর নেতৃত্বে দল বাছাইপর্বে দুর্দান্ত খেলেছে
-
মাঠে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত, গতি ও নেতৃত্ব পুরো দলকে আত্মবিশ্বাসী করেছে
-
নারী ফুটবলের নতুন আইকন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন আফঈদা
এই অর্জন শুধু একটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নয়; এটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের আন্তর্জাতিক মানে উত্তরণের প্রতীক।
ক্রিকেটে ইতিহাসের শীর্ষে: মুশফিকুর রহিম
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ২০২৫ সাল বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রেখেছেন মুশফিকুর রহিম। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনি পা রেখেছেন ১০০তম টেস্টে—এটি নিজেই এক বিশাল অর্জন।
কিন্তু আরও বড় ইতিহাস হলো—
✔১০০তম টেস্টে সেঞ্চুরি, যা দক্ষিণ এশিয়াতেও বিরল ঘটনা।
-
টেস্টে দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে আবারও নিজের মূল্য প্রমাণ করেছেন
-
বয়স ও অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও ফিটনেস ও পারফরম্যান্সে তিনি নতুনদের জন্য দৃষ্টান্ত
-
তাঁর এই রেকর্ড ভাঙা তো দূরের কথা, ছুঁতে পারবে কি না—সেই নিয়েও সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে মুশফিকের ২০২৫ এমন একটি মাইলফলক তৈরি করেছে, যা বহুদিন স্মরণীয় থাকবে।
বছরটা এখনো শেষ হয়নি, সামনে আরও অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও ২০২৫-এর ক্রীড়াঙ্গনকে যদি এ মুহূর্তে সংজ্ঞায়ন করতে হয়, তবে চারটি নামই সবচেয়ে উজ্জ্বল—হামজা, আমিরুল, আফঈদা ও মুশফিক।
তাদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়; তারা বাংলাদেশের খেলাধুলার মান, পরিচিতি ও ভবিষ্যতকে নতুনভাবে নির্দেশ করছে।


