অনলাইন ডেস্ক

দেশের স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ব্যতিক্রমী কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা ‘পুষ্টি ভার্সেস অফ লাইট’ সিজন ২-এর গ্র্যান্ড ফিনালে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
টি কে গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন মাদারল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী মো. আল-আমিন হামজা। ফার্স্ট রানার আপ হয়েছেন তাহসিন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রেদোয়ান ইবনে তাহের এবং সেকেন্ড রানার আপ হয়েছেন মাদ্রাসায়ে আবু হুরায়রা (রা.) তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাজ উদ্দিন।
গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টি কে গ্রুপের বিজনেস ডিরেক্টর মোফাচ্ছেল হক। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ইউনিটের হেড অফ বিজনেস, হেড অফ সেলসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্র জানায়, দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে পবিত্র আল-কোরআনের বাণী ছড়িয়ে দিতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ দেশব্যাপী অডিশনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু হয়। বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া অসংখ্য প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বাছাই করে ৩০ জনকে নিয়ে শুরু হয় মূল পর্ব।
পুরো প্রতিযোগিতায় ছিল ৭টি রাউন্ড এবং মোট ২৭টি পর্ব। এতে স্কুল ও মাদ্রাসার ছেলে ও মেয়ে প্রতিযোগীরা একই মঞ্চে তিলাওয়াত পরিবেশন করে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেন।
তিলাওয়াত মূল্যায়নের জন্য গঠন করা হয় অভিজ্ঞ বিচারক প্যানেল। প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইন্টারন্যাশনাল কোরআন রিসাইটেশন অ্যাসোসিয়েশন (IQRA)-এর প্রেসিডেন্ট ও ইনস্টিটিউট অফ কোরআনিক সাইন্স অ্যান্ড ফনেটিক্স, বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী শায়খ আহমদ বিন ইউসুফ আল আজহারী। বিচারক হিসেবে আরও ছিলেন হাফেজ মাওলানা আবদুল কাদের রহমানী এবং ক্বারী বাসিরুদ্দিন।
অনুষ্ঠানটি প্রতিদিন বিকেল ৫টায় মাগরিবের আজানের পূর্বে চ্যানেল নাইন-এ প্রচারিত হয়ে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা ছিল। চ্যাম্পিয়ন পান ৩ লাখ টাকা, ফার্স্ট রানার আপ ২ লাখ টাকা এবং সেকেন্ড রানার আপ ১ লাখ টাকা। পাশাপাশি বিজয়ীদের জন্য ওমরাহ পালনের সুযোগ এবং বিভিন্ন গিফট হ্যাম্পার প্রদান করা হয়।
টি কে গ্রুপের বিজনেস ডিরেক্টর মোফাচ্ছেল হক বলেন, দর্শকদের অভূতপূর্ব সাড়া আয়োজকদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।
আয়োজকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মাঝে কোরআন তিলাওয়াতের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


