
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের একটি গোপন কারাগার নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ‘রাকেফেত’ নামের এই কারাগারটি মাটির নিচে অবস্থিত—যেখানে সূর্যের আলো কখনো পৌঁছায় না। সেখানে আটক রাখা হয়েছে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে, যাঁরা বছরের পর বছর বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, রাকেফেত কারাগারে বন্দিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। তাঁদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয় না, চিকিৎসা সুবিধাও প্রায় অনুপস্থিত। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থেকেও তাঁদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকারের পক্ষে কাজ করা সংগঠন ‘আদামির’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাকেফেত কারাগারের অবস্থান এমনভাবে গোপন রাখা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শন বা সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে। বন্দিদের একজনের উদ্ধৃতি দিয়ে সংগঠনটি জানায়, “আমরা জানি না সূর্যের আলো দেখতে কেমন লাগে। দিন আর রাতের পার্থক্য বোঝারও উপায় নেই।”
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু কারাগারের অবস্থান প্রকাশ করা হয় না, তবে সব বন্দিকেই আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় রাখা হয়েছে।
তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের গোপন কারাগার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বন্দিদের অমানবিক অবস্থায় বছরের পর বছর আটকে রাখা “নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ” হিসেবে গণ্য হবে।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাকেফেত কেবল একটি কারাগার নয়, বরং এটি ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নিয়ন্ত্রিত নীরব নিপীড়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক চাপ না বাড়লে এই কারাগার ও এর বন্দিদের ভাগ্য অন্ধকারেই ঢাকা থাকবে—যেমন অন্ধকারে ঢাকা পড়ে আছে রাকেফেতের প্রতিটি দেয়াল।


