অনলাইন ডেস্ক

চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রথমবারের মতো ‘সেজিল’ নামের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান। দেশটির দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দ্রুতগতির এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)—জানিয়েছে, নতুন দফার হামলায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে BBC News জানিয়েছে, সেজিল একটি মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-সারফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ইরানের Natanz Nuclear Facility থেকে Tel Aviv পর্যন্ত দূরত্ব মাত্র সাত মিনিটে অতিক্রম করতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম Press TV জানিয়েছে, সেজিলকে কখনও কখনও “ড্যান্সিং মিসাইল” বলা হয়। উচ্চ আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় এর গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকায় এ নাম দেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটি ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা Iron Dome-কে ফাঁকি দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রবিবার ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্য করে মোট ৫৪টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এ হামলায় সুপার-হেভি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র Khorramshahr missile, Kheibar Shekan missile, Qadr missile, Emad missile এবং প্রথমবারের মতো কৌশলগত জ্বালানি চালিত Sejjil missile ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে Israel Defense Forces (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করা হয়েছে। আগের হামলার খবর প্রকাশের দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে নতুন করে এই হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
চলমান সংঘাতে ইরান উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


