শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬

আসাম থেকে তিন মাসে দুই হাজার জনকে বাংলাদেশে ‘পুশ’ করা হয়েছে

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

গুয়াহাটি: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, ১৯৫০ সালের একটি পুরোনো আইন ব্যবহার করে গত কয়েক মাসে প্রায় দুই হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যের বিদেশি ট্রাইব্যুনাল কাউকে বিদেশি ঘোষণা করার এক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানো হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চতর আদালতে আপিল করে যাতে ঘোষিত ‘বিদেশিরা’ দীর্ঘদিন রাজ্যে অবস্থান করতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর ১৮ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্বশর্মা আরও বলেন, এত দিন বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের আটক শিবিরে রাখা হলেও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে যেতেন। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের কীভাবে দ্রুত বহিষ্কার করা হবে, সে বিষয়ে আগে কোনো স্পষ্ট গাইডলাইন ছিল না। তাঁর কথায়, “আমরা কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা বলছি না। আমাদের দরকার নেই। শুধু পুশ ব্যাকই বিদেশিদের মোকাবেলার নতুন উপায়।”

তবে মুখ্যমন্ত্রী যে আইনটি প্রয়োগের কথা বলছেন, সেটি নিয়ে গুরুতর আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা। আইনটির নাম ‘অভিবাসী (আসাম থেকে বহিষ্কার) নির্দেশ, ১৯৫০’, যা বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের আগেই, ১৯৫০ সালের ১ মার্চ প্রণয়ন করা হয়েছিল। আইনটিতে বলা আছে, বহিষ্কারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখ ও পথ উল্লেখ করতে হবে এবং এটি শুধু আসাম নয়, পুরো ভারতেই প্রয়োগযোগ্য।

গুয়াহাটি হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়া বলেন, “এই আইনটি দেশভাগ-পরবর্তী এক জরুরি পরিস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল। এটি কখনোই নিয়মিত বা স্থায়ী বহিষ্কার ব্যবস্থার জন্য নয়।” তিনি জানান, আইনটির দ্বিতীয় ধারায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ‘সন্তুষ্টি’র ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে নোটিশ, শুনানি বা আপিলের সুযোগ নেই—যা ভারতের সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর ধারার পরিপন্থী।

অন্য সিনিয়র আইনজীবী হাফিজ রশিদ চৌধুরীর মতে, ১৯৫০ সালের এই আইন দিয়ে আদৌ ‘পুশ ব্যাক’ করা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি ট্রাইব্যুনাল এবং পরবর্তী উচ্চ আদালতে আপিলের পথ এড়িয়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বহিষ্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা পুরো বিচারব্যবস্থাকেই পাশ কাটানোর শামিল।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস (সিজেপি)-এর আসাম রাজ্য ইনচার্জ পারিজাত নন্দ ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত প্রায় দুই হাজার পুশ ব্যাক হওয়া ব্যক্তির তালিকা কোথায়? তিনি বলেন, “এই মানুষদের মধ্যে কোনো ভারতীয় নাগরিক নেই—এই নিশ্চয়তা কে দেবে? এর আগেও রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে পাঠানো ব্যক্তিদের আবার ভারতে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে, কারণ তারা প্রকৃতপক্ষে ভারতের নাগরিক ছিলেন।”

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ১৯৫০ সালের এই আইন ব্যবহারের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গৌহাটি হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ঘিরে আসামে রাজনৈতিক, আইনি ও মানবাধিকার বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদ

প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান, নাকি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সূচনা?

সুফি সাগর সামস বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতমুখী রাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে প্রতিশোধের সংস্কৃতি,...

শিরোনাম: চীন-মিয়ানমার করিডরে যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পৌঁছাবে বাংলাদেশের পণ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী...

জাবির বাজেট ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, গবেষণায় বরাদ্দ শূন্য

স্টাফ রিপোর্টার | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায়...

বিশ্বকাপ জিতবে রোনালদোর পর্তুগাল’—ঘানার পুরোহিতের চাঞ্চল্যকর দাবি

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ঘানার আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব নানা কোয়াকু বোনসাম। তার দাবি, আগামী বিশ্বকাপে...

বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ট্যাক্সের প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক অতিথির জন্য এক হাজার টাকা করে সরকারি ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের...

জনপ্রিয় সংবাদ