নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের চূড়ান্ত শুনানি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদেশের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, “১৫ বছরের জঞ্জাল সরিয়েছি ১৬ মাসে।” তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সাংবিধানিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় আদালতের মনোযোগ ও অগ্রগতি।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি ধারা ও অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই সংশোধনী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে কার্যকর হয়েছিল।
পরে ২০২৫ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সংশোধনীটির বৈধতা পুনর্বিবেচনার দাবি ওঠে। একই বছর হাইকোর্টে এ সংশোধনীর আইন ও এর কিছু ধারা চ্যালেঞ্জ করে দুটি পৃথক রিট করা হয়।
রিট ও হাইকোর্টের রায়
রিট দুটি করেন—
-
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকসহ পাঁচজন নাগরিক
-
নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন
চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সংশোধনীর বিভিন্ন দিকের বৈধতা নিয়ে আদালত মতামত প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ ও অন্যান্য পক্ষ আপিল বিভাগের শরণাপন্ন হয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার জানায়,
-
নির্বাচনী সংবেদনশীলতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে
-
চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে
এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নির্ধারণ করা হবে।
আইনজীবীরা মনে করছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে সহায়ক হবে।


