অনলাইন ডেস্ক

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগের রাতে মনসুর আল হাল্লাজ নাসরুল কুশুরিকে একটা চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে নিজের মৃত্যু ও মৃত্যু-পরবর্তী পরিণতি নিয়ে অদ্ভুত এক ভবিষ্যদ্বানী করেছিলেন হাল্লাজ। বলেছিলেন, গোপনীয়তা খসে পড়ার কথা। তারা তাকে না মারতে পারবে, না শুলে চড়াতে পারবে। তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে।
এই চিঠিতেই তিনি বলেছিলেন, তার এই ইহকালীন পরিণতি মূলত তার পরকালীন সম্মান লাভের উপলক্ষ। বলেছিলেন, আগুনে পোড়ানোর পর তার শরীরকে মানুষ পদদলিত করবে। আগুন নিভে গেলে ছাইয়ের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে৷ পরবর্তীতে এমন কিছুই ঘটেছিল। ধর্ম অবমাননার দায়ে যারা হাল্লাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল, তাদের কেউ মনে রাখেনি৷ হাল্লাজ থেকে গেছেন, মানুষের হৃদয়ের ফুল হয়ে।
হাল্লাজকে শাস্তির দেওয়া হয়েছিল ‘আনাল হক’ বলার কারণে। অথচ সেইসব মুর্খদের সাধ্য ছিল না, তার কথার অর্থ বোঝার। হায়, আজও কি আছে!
ইমাম গাজ্জালী বলেছিলেন, তাওহিদের যে স্তরে মানুষ পৌঁছাতে পারেনি, উদ্ধত হয়ে তাকে অস্বীকার করা যাবে না৷ বরং সেই স্তরকে মেনে নিতে হবে৷ গাজ্জালীর মতে, শুধুমাত্র বিশ্বাসী হলেই সেই পর্যায়ের পৌঁছানো যায় না। যেভাবে নবুওয়তের ব্যাপারে ঈমান আনলে বিশেষ মর্যাদা লাভ করা যায়, কিন্তু নবী হওয়া যায় না। অথচ তারা দাবি করে, তারা যা জানে সেটাই সত্য, তারা যা পড়েছে বা শুনেছে শুধু সেটাই সত্য। কিন্তু সাধনা, প্রেম, ভালোবাসা কিংবা ঐশী অনুভব মানুষকে সামান্য থেকে অসামান্য করে তোলে, সাধারণ থেকে নিয়ে যায় অসাধারণ স্তরে।
ইবনে আরাবি দারুণভাবে দেখিয়েছেন, মানুষের সামান্য থেকে অসামান্য হয়ে ওঠার পথটাকে। এই পথেই সাধক আল্লাহ ছাড়া জান্নাত-জাহান্নামসহ সব কিছু থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলে।
ওই যে রাবেয়া বসরীর সেই ঘটনাটার মতো। একবার হজরত রাবেয়া বসরীকে দেখা গেল এক হাতে আগুন, আরেক হাতে পানি নিয়ে ছুটছেন। কেউ জিজ্ঞেস করল—এ কেমন অবস্থা? আপনি আগুন আর পানি নিয়ে দৌড়াচ্ছেন কেন?
রাবেয়া উত্তর দিলেন—এই আগুন দিয়ে আমি জান্নাত পুড়িয়ে দেব, আর এই পানি দিয়ে জাহান্নাম নিভিয়ে ফেলব। কারণ, অনেকে জান্নাতের লোভে আর জাহান্নামের ভয়ে আল্লাহর ইবাদত করে। অথচ আমি চাই মানুষ যেন কেবল আল্লাহর প্রেমেই ইবাদত করে।
এই প্রেমটুকুই সম্ভবত সমস্ত কিছুর সত্য। এটা বোধহয় শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।
সূত্র: সুফি চৈতন্যের বিচিত্র কথকতা: তর্জমা : আবদুর রহমান রাফি।
hikayat-i sufiya : grace and charisma in the lives of female saintly figures in the delhi sultanate: Raziuddin Aquil.
তাজকেরাতুল আউলিয়া: ফরিদুদ্দিন আত্তার।
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।


