
স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি শুধু একজন রাজনীতিকই নন, ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান চিন্তাবিদ, লেখক ও শিক্ষাবিদও। স্বাধীনতার পর ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার যে ভিত গড়ে ওঠে, তার স্থপতি ছিলেন আজাদ। তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতিবছর ১১ নভেম্বর তাঁর জন্মদিন ‘জাতীয় শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদের জন্ম ১৮৮৮ সালের ১১ নভেম্বর সৌদি আরবের মক্কায়। অল্প বয়সেই তিনি ইসলাম, সাহিত্য, ইতিহাস ও দর্শনে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তিনি মহাত্মা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে কাজ করেন এবং ভারতের স্বাধীনতার জন্য বহুবার কারাবরণ করেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ সালে জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় আজাদকে প্রথম শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় এক দশক (১৯৪৭–১৯৫৮) তিনি এই পদে থেকে ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন আনেন। তাঁর হাতেই প্রতিষ্ঠিত হয় ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (UGC), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (IIT), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (IISc)-এর মতো প্রতিষ্ঠান।
তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষিত নাগরিক। তাই প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি তিনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্পকলা ও সংস্কৃতি শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব দেন। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৫০ সালে গঠিত হয় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (ICCR), যা ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।
মাওলানা আজাদ নারীশিক্ষার বিস্তারেও ছিলেন অগ্রগামী। তিনি মনে করতেন, নারীশিক্ষা ছাড়া সমাজের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর নীতি ও চিন্তাধারা আজও ভারতের শিক্ষানীতির মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৫৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে ভারত হারায় একজন অসাধারণ শিক্ষানেতা ও চিন্তাবিদকে। তবে আজও তাঁর স্বপ্ন ও অবদান ভারতের শিক্ষা ও উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হচ্ছে।


