অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন, তবুও চলমান কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে ইরান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি সূত্র জানিয়েছে, জব্দ অর্থ ছাড়ের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-এ নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানে চলমান দুই দেশের আলোচনায় এই বিষয়টি অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।
আরেকটি সূত্রের দাবি, প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা বর্তমানে কাতার-এর ব্যাংকগুলোতে আটকে রয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কাতার।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ইরানের এই অর্থ প্রথম জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র, যখন তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন তেহরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই অর্থের বড় অংশই ছিল দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির আয়, যা পরবর্তীতে ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে পড়ে।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়। সেই চুক্তির আওতায় পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে ইরান থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিকেও মুক্তি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জব্দ অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।
তবে সে সময় যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানায়, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক কাজে ব্যবহার করা যাবে—যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য কেনার জন্য। পুরো ব্যয় প্রক্রিয়াটি মার্কিন অর্থ বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকার কথাও বলা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থ ছাড়ের সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের চলমান আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স


