শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুর-৩ আসনের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। বিএনপি ও জামায়াত—দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীদের মধ্যে চলছে জোরালো প্রচারণা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। ভোটারদের একটি অংশ উন্নয়ন ও ধারাবাহিকতার পক্ষে মত দিচ্ছেন, অন্যদিকে পরিবর্তনের দাবিও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই। পরিবারের রাজনৈতিক পরিচিতি ও সংগঠনের সমর্থনের ওপর ভর করে তিনি প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাদলের মৃত্যুর কারণে আসনটির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততাকে মূল শক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, “মানুষের সুখে-দুঃখে ৩০ বছর ধরে পাশে আছি। উন্নয়নের স্বার্থে ভোটাররা ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবেন।”
জামায়াত প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ দাবি করেন, এলাকায় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। তিনি বলেন, “দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পেতে ভোটাররা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবেন। আমার ভাইয়ের জনপ্রিয়তাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।”
স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে। একাংশ মনে করছেন, উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিএনপিকে ভোট দেওয়া উচিত। তবে অন্য একটি অংশ নতুন নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং কিছু রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে বিএনপির প্রতি অসন্তোষের কথাও জানিয়েছেন।
এদিকে জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, সুষ্ঠু ভোট হলে এলাকায় “নীরব ভোট বিপ্লব” ঘটবে এবং তাদের প্রার্থী বিজয়ী হবেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে দুই উপজেলা, ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।


