নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুরে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ যাত্রীরা। তেল সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন জেলার ৮৫টি ফিলিং স্টেশনে ৮৫ জন ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে তারা দায়িত্ব পালন শুরু করলেও তেল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের চিত্রে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।
শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই শত শত মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
হারাগাছ পৌর এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী জানান, প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে যেতে সকালে একটি পাম্পে লাইনে দাঁড়ান তিনি। “সকাল ৮টা থেকে দাঁড়িয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তেল পেয়েছি,” বলেন তিনি।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, “দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে রিকশা ও অটোরিকশায় অফিসের কাজ করতে হয়েছে।”
পাম্প মালিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রংপুরে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। প্রতিটি চালক যদি গড়ে এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন, তাহলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বলেন, “জ্বালানি বিপণন স্বাভাবিক রাখতে জেলার প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিদিন তেল বিক্রির কার্যক্রম তদারকি করছেন।”
অন্যদিকে, সরবরাহ ঘাটতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ জাকির হোসেন পাটোয়ারী। তিনি জানান, “আগে পাম্পগুলো সপ্তাহে দুইবার পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করত। এখন প্রতিদিনই চাহিদা আসছে, কিন্তু সেই অনুপাতে সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


