রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সব মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—
রেহেনা আক্তার (৬১), মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজীব বিশ্বাস (২৮), জহুরা অন্তি (২৭), কাজী সাইফ (৩০), মর্জিনা আক্তার (৩২), ইস্রাফিল (৩), সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), ফাইজ শাহানূর (১১), তাজবিদ (৭), আরমান খান (৩১), নাজমিরা জেসমিন (৩০), লিমা আক্তার (২৬), জোস্ন্যা (৩৫), মুক্তা খানম (৩৮), নাছিমা (৪০), আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), সোহা আক্তার (১১), আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), আরমান (৭ মাস), আব্দুর রহমান (৬), সাবিত হাসান (৮) এবং আহনাফ তাহমিদ খান (২৫)।
দুর্ঘটনার বিবরণ
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সময় কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে বা অন্যভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
উদ্ধার অভিযান
দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র মাধ্যমে নদীর ৮০-৯০ ফুট গভীরতা থেকে বাসটি টেনে তোলা হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ জানান, বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয় ডুবুরিরাও এতে অংশ নেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
উদ্ধার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত আছে। নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।


