অনলাইন ডেস্ক

দিল্লি, ২৫ মার্চ ২০২৬ – দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকা হরিশ রানাকে (Harish Rana) ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অনুমতিতে লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির চিকিৎসা ও আইনি ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (AIIMS) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হরিশের মা বাবা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ নিশ্চিত করেছিলেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৪ মার্চ হরিশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দুই দিন পর ধাপে ধাপে তার লাইফ সাপোর্ট সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১১ দিনের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর পর তার কর্নিয়া, হার্ট ভালভসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও টিস্যু দান করেছেন তার পরিবার। এতে মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।
২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনায় গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাতপ্রাপ্ত হন হরিশ। এরপর থেকে তিনি কোমায় ছিলেন এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য ট্রাকোস্টমি টিউব ও খাবারের জন্য গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টমি টিউবের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। চিকিৎসকেরা জানান, তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় কোনো উন্নতি না দেখা দিলে এবং রোগীর ফিরে আসার সম্ভাবনা না থাকলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। আদালত একই সঙ্গে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বিষয়ক দ্রুত আইন প্রণয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
হরিশকে গাজিয়াবাদের বাসা থেকে এইমসের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। ডা. সীমা মিশ্রের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ বোর্ড অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
এর আগে ২০১১ সালে অরুণা শানবাগ মামলায় ভারতে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বৈধতা পেয়েছিল, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। হরিশ রানার ক্ষেত্রে এটি প্রথমবার বাস্তবায়ন হলো।
সূত্র: এনডিটিভি


