অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান দাবি করেছে, তারা ইসরায়েল-এর দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকশ’ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে তেহরানের দাবি।
ইরানি সামরিক সূত্র জানায়, তাদের নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের দিমোনা ও আরাদ শহরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। দিমোনা এলাকায় অবস্থিত শিমন পেরেস নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র-এর নিকটবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, আরাদে অন্তত ৮৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। অন্যদিকে দিমোনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন, যার মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো নিহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে ‘কঠিন সন্ধ্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, হামলার সময় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, দিমোনার পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে সরাসরি কোনো ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ওই এলাকায় অস্বাভাবিক বিকিরণ মাত্রাও শনাক্ত হয়নি বলে জানায় সংস্থাটি।
১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত দিমোনা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। ধারণা করা হয়, ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা অর্জন করে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ নীতি বজায় রেখেছে তেলআবিব।
তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক আবাস আসলানি বলেন, ইরান বর্তমানে ‘চোখের বদলে চোখ’ কৌশল অনুসরণ করছে, যার লক্ষ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
তিনি আরও বলেন, “তেহরান কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায়।”
সূত্র: প্রেসটিভি, আল জাজিরা


