অনলাইন ডেস্ক

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর এরবিলে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। চলমান আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর পর থেকে ব্রিটিশ বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে এটি তৃতীয় সফল হামলা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার ঘাঁটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, বুধবার রাতে ইরানি ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় এরবিলের একটি বিমান ঘাঁটি। ব্রিটিশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও আরও কয়েকটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে ঘাঁটির ভেতরে আঘাত হানে।
হামলায় ঘাঁটিতে অবস্থানরত কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন। হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলোকে ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ বা আত্মঘাতী ড্রোন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারমানেন্ট জয়েন্ট হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন শাখার সহকারী চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার গাই ফোডেন বলেন, এরবিল ও বাগদাদে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে এবং এসব হামলা ছিল অত্যন্ত সুসমন্বিত।
তিনি জানান, এরবিলে অবস্থানরত ব্রিটিশ কর্মীরা ঘাঁটির প্রতিরক্ষায় সহায়তা করেছেন। তারা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করলেও কয়েকটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করে ক্যাম্পে আঘাত হানে।
এর আগে গত ১ মার্চ একই ঘাঁটিতে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার স্থান থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে ব্রিটিশ কর্মীরা অবস্থান করছিলেন।
এদিকে সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের আরএএফ আক্রোতিরি বিমান ঘাঁটিতেও একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল সামান্য।
যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য জেরেমি করবিন বলেছেন, ব্রিটেনকে আবারও একটি ‘অবৈধ যুদ্ধে’ জড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং এতে দেশটির নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তিনি সরকারের কাছে এই সংঘাতে জড়িত থাকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
জানা গেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলার পথে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করছে। গত এক সপ্তাহে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বি–১ ল্যান্সার বোমারু বিমান ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছে।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইরাকের ওই ঘাঁটি থেকে তাদের সব সেনা সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। ইতালির মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, আগে থেকেই শুরু হওয়া সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা


