অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি অফিস আদালত আংশিকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামী রবিবার থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। প্রথম ধাপে তেহরান প্রদেশে প্রায় ২০ শতাংশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে গিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে পুরুষ কর্মীদের অফিসে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তবে নারী কর্মীরা আপাতত ঘরে বসেই দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে কিছু ব্যাংকের কার্যক্রমও সীমিত পরিসরে চালু থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। চলমান এই সংঘাতের কারণে দেশটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন ধাপে ধাপে সরকারি কার্যক্রম পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পরও জরুরি কিছু সেবা চালু ছিল। মরদেহ দাফনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মী, মিউনিসিপ্যালিটি, মেডিকেল সেন্টার, সামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। সরকার জানিয়েছে, এসব সেবা আগের মতোই চলতে থাকবে।
তেহরানের প্রাদেশিক প্রশাসন জানিয়েছে, ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের রবিবার থেকে অফিসে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও ধীরে ধীরে চালু হতে শুরু করেছে। ঝুঁকি পুরোপুরি না কাটলেও কয়েকটি এয়ারলাইনস সীমিত পরিসরে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
এমিরেটস এয়ারলাইনস গত বৃহস্পতিবার থেকে আবার ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওই দিন দুবাই থেকে প্রায় ৩০ হাজার যাত্রীকে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করছে সংস্থাটি। একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছে ইতিহাদ এয়ারলাইনসও। এছাড়া ভারতের এয়ারলাইনস এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকায় অনেক দেশ এখনো তাদের আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার কথা ছিল এয়ার ফ্রান্সের একটি ফ্লাইট। আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতির কারণে সেটি মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স।


