অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের একটি হামলার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র প্রায় ৮০ ফুট উচ্চতায় উড়ে এসে ইরানের দুটি বোমারু বিমান কাতারের মার্কিন ঘাঁটির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে সেগুলো শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়।
ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ শুরু করে তেহরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN–এর বরাত দিয়ে জানা যায়, গত সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সোভিয়েত আমলের দুটি Sukhoi Su-24 ট্যাকটিক্যাল বোমারু বিমান পাঠায় কাতারের Al Udeid Air Base এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র Ras Laffan Industrial City–এর দিকে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সামরিক স্থাপনা আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য অবস্থান করছেন। এই ঘাঁটি অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রায় দুই মিনিট দূরে থাকা অবস্থায় ইরানি বিমানগুলোকে শনাক্ত করা হয়। রাডারের নজর এড়াতে বিমান দুটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে খুব নিচু দিয়ে উড়ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং প্রকাশিত আলোকচিত্রে দেখা গেছে, বিমানগুলো ভারী বোমা ও গাইডেড মিসাইলে সজ্জিত ছিল।
কাতার বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে রেডিও বার্তার মাধ্যমে বারবার সতর্ক করা হলেও ইরানি পাইলটদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে শেষ মুহূর্তে বিমান দুটি ভূপাতিত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আকার দিতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।


