অনলাইন ডেস্ক

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান টানাপোড়েন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক ও রাজনৈতিক বিকল্প নিয়েও ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
Ayatollah Ali Khamenei–কে সরানোর বিকল্পও বিবেচনায়?
মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার নিশ্চয়তা না দেয়, তাহলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei, তাঁর ছেলে মোজতাবা খামেনি এবং শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে এ ধরনের একটি প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর কাছে উপস্থাপন করেছে পেন্টাগন।
ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি—“সব পথ খোলা আছে।” আরেকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান, যা তিনি রাজনৈতিকভাবে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। তবে ইরান গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সীমিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে শর্তসাপেক্ষ ছাড়?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ চিরতরে বন্ধের নিশ্চয়তা দেয়, তবে সীমিত পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের লিখিত প্রস্তাব বিস্তারিত হতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে তাদের কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়। প্রস্তাব পাওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করবে।
কূটনীতি ব্যর্থ, সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছে
একাধিক ধাপের কূটনৈতিক আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় দুই দেশ দ্রুত সামরিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। উপসাগরীয় দেশ ও Israel মনে করছে, সমঝোতার চেয়ে সংঘাতের সম্ভাবনাই বেশি।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের Iraq War–এর পর সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাহিনী প্রস্তুত থাকলেও এখনো সামরিক অভিযানের সবুজ সংকেত দেননি ট্রাম্প।
জেনেভা আলোচনায় কী বলছে তেহরান?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ কিছু নির্দেশনামূলক নীতিতে একমত হয়েছে। ইরান আগামী দুই–তিন দিনের মধ্যে একটি লিখিত প্রস্তাব দেবে। তিনি দাবি করেন, জেনেভায় আলোচনায় পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের কথা ওয়াশিংটন স্পষ্টভাবে বলেনি।
আরাঘচি বলেন, আলোচনায় মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি কীভাবে বেসামরিক কাঠামোর মধ্যে চালু রাখা যায় এবং এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা যায়—সেই বিষয়েই আলোচনা চলছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত প্রস্তাব
এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা International Atomic Energy Agency–এর মহাপরিচালক Rafael Grossi। প্রস্তাবের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলার মতো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও থাকতে পারে।
হোয়াইট হাউসের সতর্ক বার্তা
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সমঝোতার ক্ষেত্রে এখনো বড় দূরত্ব রয়ে গেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের প্রস্তাব বিশ্বাসযোগ্য ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কূটনৈতিক পথ খোলা থাকলেও সামরিক প্রস্তুতি এবং কঠোর বিকল্প পরিকল্পনার আলোচনা—দুই দেশের সম্পর্ককে আবারও এক অনিশ্চিত মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, অ্যাক্সিওস


