অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতে যোগাযোগ থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। একই সঙ্গে তাঁর সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস জানিয়েছেন, এ সম্পর্ক ঘিরে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পাতার নথি প্রকাশ করে। এসব নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ, অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং ই-মেইল আদান-প্রদানের তথ্য উঠে এসেছে। প্রকাশিত হয়েছে ব্যক্তিগত কিছু ছবিও।
প্রকাশিত নথির একটি খসড়া ই-মেইলে দাবি করা হয়, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন গেটস।
অস্ট্রেলিয়ার নাইন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গেটস বলেন, ২০১১ সালে তিনি প্রথম এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করেন এবং পরবর্তী তিন বছরে কয়েকবার তাঁর সঙ্গে ডিনার করেন। তবে তিনি কখনো এপস্টেইনের ক্যারিবীয় দ্বীপে যাননি এবং নারীদের সঙ্গে কোনো অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন না বলে জানান।
গেটস বলেন, “আমি তাঁর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য অনুতপ্ত এবং এজন্য ক্ষমা চাইছি।”
তিনি আরও বলেন, খসড়া ই-মেইলটি কখনো পাঠানো হয়নি এবং সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
নথিতে গেটসের বিরুদ্ধে মাদক সংগ্রহে সহায়তা, রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা সামলানো এবং বিবাহিত নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করার মতো অভিযোগও উল্লেখ ছিল। এসব অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেছেন গেটস ও তাঁর মুখপাত্র।
গেটসের মুখপাত্র জানান, এসব নথি থেকে বোঝা যায় এপস্টেইন গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে না পেরে হতাশ ছিলেন এবং মানুষকে ফাঁদে ফেলা বা বদনাম করার চেষ্টা করতেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন মেলিন্ডা গেটসও। মার্কিন ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন নথি প্রকাশ তাঁর বিবাহিত জীবনের বেদনাদায়ক স্মৃতি আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
মেলিন্ডা বলেন, “যখনই এসব বিষয় সামনে আসে, ব্যক্তিগতভাবে তা আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে ওঠে। এখনো যেসব প্রশ্ন রয়েছে, তার উত্তর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন জেফরি এপস্টেইন।
গেটস জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের মূল বিষয় ছিল বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে ধনীদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা। তবে পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন, এসব আলোচনা বাস্তব কোনো ফল দেয়নি।
সূত্র: গার্ডিয়ান


