অনলাইন ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন নীতির আওতায় শরণার্থী গ্রহণের পরিবর্তে আর্থিক অবদান রাখার পথ বেছে নিয়েছে পর্তুগাল। নিজস্ব অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কায় দেশটি ৪২০ জন আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ না করে ইউরোপীয় কমিশনকে ৮৪ লাখ ইউরো পরিশোধে সম্মত হয়েছে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম অবজারভাদর ও এসআইসি নোতিসিয়াস জানায়, ইইউর নির্ধারিত অভিবাসী স্থানান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্তুগালের জন্য মোট আশ্রয়প্রার্থীর ২ শতাংশ, অর্থাৎ ৪২০ জনকে গ্রহণের কথা ছিল। তবে সরকার দাবি করেছে, বর্তমান সক্ষমতা বিবেচনায় এ সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ করলে পুরো ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। সে কারণেই বিকল্প হিসেবে অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, আগামী জুন থেকে এই অর্থ পরিশোধ শুরু করবে পর্তুগাল। অর্থটি ইইউর ‘সংহতি তহবিল’-এ জমা হবে, যা অভিবাসনচাপে থাকা দেশগুলোকে সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হবে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন সংহতি কাঠামোর আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো তিন ধরনের বিকল্পের যেকোনো একটি বেছে নিতে পারে—
১) আশ্রয়প্রার্থী পুনর্বাসনে সম্মতি,
২) আর্থিক অবদান, অথবা
৩) বিকল্প কোনো সংহতি ব্যবস্থা প্রস্তাব।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র ২০২৬ সালে ২১ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী পুনর্বণ্টনে সম্মত হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পর্তুগালের ওপর ৪২০ জন আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণের দায়িত্ব পড়েছিল।
এ বিষয়ে পর্তুগালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাঁও আমারো আপত্তি জানিয়ে ব্রাসেলসকে সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধ করেছেন। ইউরোপীয় কমিশন বর্তমানে পর্তুগালের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং দেশটিকে সংহতি প্রক্রিয়া থেকে আংশিক বা পুরোপুরি অব্যাহতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, সাইপ্রাস, গ্রিস, ইতালি ও স্পেনকে অভিবাসনচাপে থাকা দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তারাই সংহতি ব্যবস্থার প্রধান সুবিধাভোগী হবে। এ ছাড়া অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া ও পোল্যান্ডকে আগের বছরগুলোর সম্মিলিত অভিবাসনচাপের কারণে ‘গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন পরিস্থিতি’র মুখে থাকা দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব দেশ প্রথম দফার সংহতি তহবিলে তাদের অবদান পুরোপুরি বা আংশিকভাবে কমানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং সে অনুযায়ী তাদের প্রতিশ্রুতি সমন্বয় করা হয়েছে।
এদিকে জার্মানিকে প্রথম বছরে কোনো আর্থিক বা বিকল্প অবদান দিতে হয়নি। কারণ দেশটি ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বড় আকারের শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।


