অনলাইন ডেস্ক

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ একাদশ দিনে এসে চরম রূপ ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীরা দেশটির ফার্স প্রদেশে বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি–র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) ফার্স প্রদেশে এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা সোলাইমানির ভাস্কর্য ভাঙচুর করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো এক অতর্কিত হামলায় কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। তার হত্যাকাণ্ডের পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সময়ে ভুলবশত বিপ্লবী গার্ডের সদস্যরা একটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করলে বিমানে থাকা সব যাত্রী নিহত হন—যা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সরকার। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও রাজধানী তেহরানে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। পাশাপাশি ইস্ফাহানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইস্ফাহানে সরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, ইরানের সব ৩১টি প্রদেশের অন্তত ১১১টি শহর ও জনপদে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ২ হাজার ২০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেশজুড়ে চলমান এই বিক্ষোভ ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


