বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

ভারত–চীন সম্পর্কের উন্নয়ন ব্যাহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিকৃত প্রচেষ্টা’: বেইজিং

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

বেইজিং, ২৫ ডিসেম্বর: ভারত ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চলমান উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র সুপরিকল্পিতভাবে বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা নীতিকে বিকৃত করছে—এমন অভিযোগ তুলেছে চীন। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ মন্তব্য করেন।

লিন জিয়ান স্পষ্টভাবে বলেন, ভারত–চীন সীমান্ত সমস্যা সম্পূর্ণভাবে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এতে কোনো তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ বা অযাচিত মন্তব্যের কোনো সুযোগ নেই। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো দেশ যদি এই স্পর্শকাতর ইস্যুতে নিজেদের মতো করে মূল্যায়ন বা রায় দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে চীন তার বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানাবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে লিন জিয়ানকে ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চীন সম্ভবত ভারতের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়টিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চাইছে। পেন্টাগনের মতে, এর পেছনে মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক জোরদার হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ওয়াশিংটনের প্রভাব খর্ব করা।

পেন্টাগনের এই বিশ্লেষণকে ‘ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে লিন জিয়ান বলেন, ভারতকে ঘিরে চীনের নীতি কোনো সাময়িক বা স্বার্থনির্ভর কৌশলের ফল নয়। বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী, কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কেবল দ্বিপাক্ষিক স্বার্থেই নয়, বরং গোটা অঞ্চলের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে চীনা মুখপাত্র আরও বলেন, বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা আসলে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার একটি অপচেষ্টা। এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং আঞ্চলিক শান্তির পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকা নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সামরিক-কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে উভয় দেশই ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে পেন্টাগনের নেতিবাচক প্রতিবেদনকে চীন তাদের সার্বভৌম অধিকার ও স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। বেইজিংয়ের অবস্থান হলো—ভারত ও চীন নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নিজেরাই সমাধানে সক্ষম, সেখানে তৃতীয় কোনো পক্ষের উসকানি সম্পর্কের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ