অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি জেফ্রি এপস্টেইন মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হাজারো নথি প্রকাশ করেছে। এ নথিগুলোতে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ও ছবি দেখা গেছে, যদিও অধিকাংশ তথ্য এতটাই রেডাক্ট করা হয়েছে যে পূর্ণাঙ্গ চিত্র বোঝা এখনও সম্ভব নয়।
নথি প্রকাশের পেছনে রয়েছে এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট। তবে তথ্যের ব্যাপক রেডাকশন এবং কিছু নথির ওয়েবসাইট থেকে রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হওয়ায় অনুসন্ধানকারীরা এবং গণমাধ্যম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত নথিতে এমনও জানা গেছে যে, ওয়েবসাইট থেকে অদৃশ্য হওয়া নথির মধ্যে একজন ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নতুন প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, ১৯৯৬ সালেই এফবিআইকে এপস্টেইনের শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জানানো হয়েছিল। অভিযোগকারী মারিয়া ফার্মার জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও তদন্ত শুরু হয়নি। তিনি বলেন, এত বছর পর সত্য প্রকাশের বিষয়টি তার জন্য ‘বড় ধরনের মুক্তি’ হিসেবে এসেছে।
গ্র্যান্ড জুরি নথিতে উল্লেখ আছে, এফবিআই এজেন্টরা নাবালিকা মেয়েদের সাক্ষ্য রেকর্ড করেছিলেন। একাধিক নারী জানিয়েছেন, এপস্টেইন তাদের যৌন কাজে ব্যবহার করতেন। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন ম্যাসাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি আরও কিশোরীদের নিয়ে আসতেন।
প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে দেখা গেছে মিক জ্যাগার, মাইকেল জ্যাকসন, ডায়ানা রস, কেভিন স্পেসি, রিচার্ড ব্র্যানসন, পিটার ম্যান্ডেলসন, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর এবং সারাহ ফার্গুসনের উপস্থিতি। এক ছবিতে জ্যাগার বসে আছেন এপস্টেইন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মাঝে। আরেক ছবিতে ক্লিনটনকে দেখা গেছে মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে এবং একটি ছবিতে তিনি ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সুইমিং পুলে উপস্থিত।
ট্রাম্পের উপস্থিতি খুব সীমিত। নথিতে তার নাম আছে, তবে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়নি। এক আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, এপস্টেইন একটি নাবালিকা মেয়েকে ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্টে পরিচয় করিয়ে দেন; ওই ঘটনার সময় ট্রাম্প কেবল হাসেন ও সম্মতি দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, তারা অন্যদের চেয়ে বেশি স্বচ্ছভাবে কাজ করছে, তবে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করছেন, ছবি থেকে ট্রাম্পকে সরিয়ে সরকার গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ওয়েবসাইট থেকে ১৬টি নথি অদৃশ্য হয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের ছবি। এছাড়া, প্রকাশিত নথির অন্তত ৫৫০ পৃষ্ঠা পুরোপুরি রেডাক্ট করা হয়েছে এবং কয়েকটি গ্র্যান্ড জুরি নথি সম্পূর্ণ কালো করা হয়েছে।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এখনও অনেক নথি প্রকাশ বাকি আছে। আইন অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে সব নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক। মার্কিন সিনেটর চাক শুমার বলছেন, নথি প্রকাশে বিলম্ব মানে গোপনীয়তা রক্ষা। অপরদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটরা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
মোট প্রকাশিত ছবি ও নথির সংখ্যা প্রায় ৯৫ হাজার। ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, এই নথি ও ছবিগুলো এপস্টেইনের প্রভাব বিস্তার ও যৌন পাচারের নেটওয়ার্ক বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। আরও নথি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েই চলেছে, জনমনে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে—আর কী কী তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।


