অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, বাংলাদেশ – মার্কিন সিনেট সম্প্রতি ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
ক্রিস্টেনসেন নিজেও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, “বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অনুমোদন পেয়ে আমি সম্মানিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
পেশাগত জীবন ও অভিজ্ঞতা
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে তার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা রয়েছে।
২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আগে তিনি ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে মার্কিন দূতাবাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। এছাড়াও, তিনি উত্তর কোরিয়া নীতি এবং অস্ত্র হস্তান্তর বিষয়ক দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
ক্রিস্টেনসেন ওয়াশিংটন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। এর মধ্যে মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডারের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলগত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ভাষা দক্ষতা
ক্রিস্টেনসেনের শিক্ষাগত পটভূমিও সমৃদ্ধ। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর এবং রাইস ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
পেশাগত প্রয়োজনে তিনি স্প্যানিশ, জার্মান এবং ভিয়েতনামী ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছেন, যা তাকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনে আরও সক্ষম করে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নিয়োগ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার বহুমুখী অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক কৌশলগত নীতি নিয়ে কাজের জ্ঞান এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাজের অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্বে বিশেষভাবে যোগ্য করে তোলে।


