অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী শিক্ষকরা নতুন অভিবাসন নীতি ও কাজের অনুমতি বাতিলের কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই দেশে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, যা সরাসরি প্রি-স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শেখা, ভাষা দক্ষতা ও মানসিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে।
দেশটির প্রায় ৮১ লাখ শিক্ষকের মধ্যে ৮ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ জনই অভিবাসী। বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ বৃদ্ধি পেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি তাদের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
ওয়াশিংটন ডিসির কমিউনিকিডস প্রি-স্কুলের শিক্ষক সুজানা গুয়াতেমালার সহিংসতা থেকে পালিয়ে দুই বছর ধরে শিশুদের শেখাচ্ছেন। কিন্তু গত অক্টোবরে তাঁর কাজের অনুমতি নবায়ন না হওয়ায় চাকরি হারানোর মুখে পড়েন। সুজানা জানান, বিদায় নেওয়ার সময় শিশুদের কান্না তাঁর মনকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।
২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া শিক্ষকের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। শুধুমাত্র ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ৬ হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষক দেশে এসেছেন। কিন্তু অভিবাসী শিক্ষকরা নীতিগত ঝুঁকির মধ্যে পড়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
কমিউনিকিডস প্রি-স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাউল ইচেভারিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ৯০ শতাংশ শিক্ষকই অভিবাসী। হঠাৎ শিক্ষকের অনুপস্থিতি শিশুদের জন্য ভয়, কাঁদা ও মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, শিক্ষক না থাকলে পাঁচ থেকে বারো বছরের শিশুদের কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, মনোযোগ কমে এবং রাগের প্রকাশ বাড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলগুলোর অভিবাসী শিক্ষকদের হারানো শিক্ষার গুণগত মান ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী শিক্ষক বহিষ্কার নীতি শুধুমাত্র শিক্ষকদের নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা


