অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, বুধবার—বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টে (প্রধান বিচারপতির এজলাসে) এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রধান বিচারপতিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেবেন।
ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গত বছরের ১০ আগস্ট বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ১১ আগস্ট শপথ গ্রহণ করেন। তিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রয়াত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এবং প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদের সন্তান।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকে বিএ ও এমএ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর। তিনি ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে, ১৯৮৬ সালে হাইকোর্টে এবং ২০০২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল স্থায়ী বিচারপতি হন।
কর্মজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, ইটালি, নেদারল্যান্ডস, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন।
প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিচার বিভাগ ও বিচারপ্রার্থীদের কল্যাণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সারা দেশের বিচারকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক অভিভাষণে তিনি বিচার বিভাগের জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এতে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, বিচারক নিয়োগে পৃথক আইন প্রণয়নসহ নানা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরই মধ্যে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা মনে করেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় গৃহীত সাহসী ও দূরদর্শী উদ্যোগের কারণে ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ প্রধান বিচারপতি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
সূত্র: বাসস


