নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি। ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন গতকাল সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে দলটির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
এই নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুফি সাগর সামস্ বলেন, বিএইচপি বিশ্বাস করে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবে। জনগণ নির্বাচিত সরকার ফিরে পাবে এবং বাংলাদেশ থেকে নির্মূল হবে ফ্যাসিজম ও কর্তৃত্ববাদী শাসনতন্ত্র।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো অংশ গ্রহণ করেনি। ফলে ১৫৪টি আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকার কারণে ভোটের প্রয়োজন ছিল না এবং ফলাফল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্ধারিত হয়। যেসব এলাকায় নির্বাচন হয়েছিল, সেখানে বয়কট, ভোটার উপস্থিতির তীব্র কমতি, সহিংসতা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ভোটার সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় নির্বাচনটি সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ সীমিত হলেও ভোট শুরুর আগেই কিছু কেন্দ্রে ব্যালট বাক্সে ভোট ভরা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। চট্টগ্রাম-১০ আসনের শহীদ নগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রের উদাহরণে দেখা যায়, ভোট শুরুর আগে ব্যালট বাক্সে ভোট পেপার রাখা হয়েছিল। নির্বাচনের সময় গণতান্ত্রিক নিয়মে ভোট প্রদান ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ ব্যাপকভাবে প্রকাশ পায়।
সুফি সামস্ বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ১২–১৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত ছিল, যদিও সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল ভোটের হার ৪১.৮ শতাংশ ঘোষণা করেন। জনসাধারণের অংশগ্রহণ ও নির্বাচনের স্বচ্ছতার অভাব এই নির্বাচনের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দেশজুড়ে জনমতের কারণে জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ঘণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন ঘটে।
এই তিনটি নির্বাচনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, ভোটার উপস্থিতি সীমিত। বিরোধী দল ও জনগণের অংশগ্রহণে বাধা। সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ। সরকারের স্বার্থে নির্বাচনের প্রক্রিয়াগত জালিয়াতি।
গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেশের জনগণ এখন স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আশা রাখছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকারের পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।


