অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক। ডেলাওয়ার সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পর তার নিট সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৪৯ বিলিয়ন ডলারে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফোর্বসের বিলিয়নিয়ার সূচকে দেখা গেছে—ডেলাওয়ার সুপ্রিম কোর্ট টেসলার শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক চুক্তি পুনর্বহাল করায় মাস্কের সম্পদে এই বড় উল্লম্ফন ঘটে। ২০১৮ সালে নির্ধারিত এই পারিশ্রমিক প্যাকেজটির বর্তমান মূল্য প্রায় ১৩৯ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, গত বছর নিম্ন আদালত এই প্যাকেজটিকে ‘অচিন্তনীয়’ আখ্যা দিয়ে বাতিল করেছিল। তবে শুক্রবার ডেলাওয়ার সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে জানায়, আগের সিদ্ধান্তটি ছিল অনুচিত এবং মাস্কের প্রতি অন্যায়।
এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইলন মাস্ক ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হন। তার মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শিগগিরই শেয়ারবাজারে আসতে পারে—এমন জল্পনার পর থেকেই তার সম্পদের পরিমাণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
গত বছরের নভেম্বরে টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা মাস্কের জন্য আলাদাভাবে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের একটি দীর্ঘমেয়াদি পারিশ্রমিক পরিকল্পনা অনুমোদন করেন, যা করপোরেট ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বলে বিবেচিত। বিনিয়োগকারীরা টেসলাকে শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্সভিত্তিক ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি কোম্পানিতে রূপান্তরের মাস্কের পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানান।
ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ইলন মাস্কের সম্পদ বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের তুলনায় প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার বেশি।
তবে বছরটির শুরুটা মাস্কের জন্য বেশ অস্থির ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে যোগ দেওয়া এবং পরবর্তীতে নানা মতবিরোধের জেরে সেখান থেকে সরে আসার ঘটনা তার জীবনে আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর তিনি টেসলার উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক কৌশলে পূর্ণ মনোযোগ দেন, যার ফলশ্রুতিতে কোম্পানিটির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ঘটে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড


