অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ২০৩০ সালের মধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। দ্রুত পরিবর্তিত আবহাওয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত মানবস্বাস্থ্য সংকট এবং জীবিকা হুমকির কারণে এসব দেশকে আগাম কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ঝুঁকি থেকে স্থিতিস্থাপকতা: দক্ষিণ এশিয়ায় মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের অভিযোজনে সহায়তা’ শীর্ষক নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ সরাসরি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে বাস করে। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী দশকের শুরুতেই বিপুল জনগোষ্ঠী জীবিকা সংকট, স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং বাস্তুচ্যুত হওয়ার মুখে পড়বে।
বাংলাদেশ: সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের অন্যতম
বাংলাদেশকে প্রতিবেদনে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চল, নদীভাঙন, বন্যা ও লবণাক্ততার কারণে দেশের বড় অংশ জীবন ও জীবিকায় হুমকির মুখে রয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে—
-
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১.৩ কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হতে পারে;
-
কৃষি উৎপাদন ও মিঠা পানির প্রাপ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে;
-
ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টি জনিত দুর্যোগের তীব্রতা বাড়বে।
ভারত ও পাকিস্তানও একই সংকটে
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—
-
ভারতের তীব্র তাপপ্রবাহ ও পানি সংকট কোটি মানুষের স্বাস্থ্য ও শ্রম উৎপাদনশীলতায় বড় প্রভাব ফেলবে;
-
পাকিস্তানে খরা, বন্যা ও হিমবাহ গলনের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা আরও অনিশ্চিত হবে।
স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে করণীয়
বিশ্বব্যাংক অঞ্চলটির সরকারগুলোকে অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ পূর্বাভাস প্রযুক্তি, টেকসই কৃষি ও নগর অভিযোজন প্রকল্পে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানায়। পাশাপাশি প্রয়োজন—
-
ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালী করা,
-
শহর পরিকল্পনায় জলবায়ু অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া,
-
আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে দক্ষিণ এশিয়া জলবায়ুজনিত সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হবে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।


