অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত স্থানের ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি আইপি ক্যামেরা হ্যাক করে যৌনবিষয়ক কনটেন্ট তৈরি ও বিদেশি ওয়েবসাইটে সরবরাহের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি।
হ্যাকিংয়ের পদ্ধতি
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পুলিশ সংস্থা জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা সহজে ভাঙা যায় এমন পাসওয়ার্ড এবং দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) ক্যামেরাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতো। ক্যামেরাগুলোর সিকিউরিটি ভাঙার পর তারা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীদের অজ্ঞাতসারে ভিডিও স্ট্রিম সংগ্রহ করত এবং সেগুলো থেকে যৌন কনটেন্ট তৈরি করে বিদেশি একটি ওয়েবসাইটে পাঠাত।
ব্যাপক ঝুঁকিতে ব্যক্তিগত গোপনতা
সিসিটিভির তুলনায় কম দাম হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় ঘরবাড়ি, শিশু পর্যবেক্ষণ, পোষা প্রাণী নজরদারি এবং ব্যবসায়িক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আইপি ক্যামেরার ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়। হ্যাক হওয়া ক্যামেরাগুলোর অবস্থান ছিল—
-
ব্যক্তিগত বাসা
-
কারাওকে রুম
-
জিম ও শরীরচর্চা কেন্দ্র
-
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ক্লিনিকসহ সংবেদনশীল চিকিৎসাকেন্দ্র
এসব স্থানে মানুষের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ করে তা যৌন কনটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করায় ব্যাপক গোপনতা লঙ্ঘনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের ব্যবস্থা ও তদন্ত
পুলিশ জানায়, হ্যাকিং চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। গ্রেফতার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ, সাইবার অপরাধ এবং বেআইনি কনটেন্ট সরবরাহের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
এ ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের আইপি ক্যামেরায় জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার, নিয়মিত ফার্মওয়্যার আপডেট এবং দুইস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা (টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন) সক্রিয় করার পরামর্শ দিয়েছেন।


