অনলাইন ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেফতার মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে নুরুজ্জামান নোমানীর রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। শুনানি শেষে বিচারক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গাড়ি ভাড়া ও পালানোর বিবরণ
রিমান্ড শুনানিতে নুরুজ্জামান নোমানী জানান, ঘটনার দিন ১২ ডিসেম্বর প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করেছিলেন। ওই গাড়ির চালককে তিন দফায় তিনটি স্থানে যেতে বলা হয়। প্রথমে ঢাকার মৎস্য ভবনের সামনে, পরে জুমার নামাজের পর আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজারে এবং সবশেষে ধামরাই উপজেলার কালামপুরে গাড়ি পাঠাতে বলা হয়। কালামপুর থেকে গাড়িতে উঠে ফয়সাল ময়মনসিংহে যান।
নুরুজ্জামান দাবি করেন, গাড়ি ভাড়ার সূত্র ধরে অনলাইনে—হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে—নয় মাস আগে ফয়সালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত তিন মাসে ফয়সালের সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি বলেও জানান তিনি। হত্যাচেষ্টার দিন ফয়সাল পারিবারিক কারণ দেখিয়ে গাড়ি ভাড়া চান বলে তার বক্তব্য।
তিনি আরও বলেন, সেদিন তার সব গাড়ি ট্রিপে থাকায় প্রথমে তিনি ভাড়া দিতে অপারগতা জানান। পরে বন্ধু সুমনের গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। চালককে প্রথমে মৎস্য ভবনের সামনে পাঠানো হলেও পরে নির্দেশ বদলে বিএনপি বাজার এবং এরপর কালামপুরে পাঠানো হয়।
ড্রাইভারের অবস্থান
বিচারকের প্রশ্নের জবাবে নুরুজ্জামান জানান, তিনি চালককে চেনেন এবং চালক সুমন বর্তমানে ডিবি হেফাজতে আছেন।
হামলার ঘটনা
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে বিজয়নগর এলাকায় রিকশাযোগে যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন হাদি।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
সন্দেহভাজন ও তদন্ত অগ্রগতি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করেছে—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান (প্রধান সন্দেহভাজন শুটার) এবং আলমগীর হোসেন (মোটরসাইকেল চালক)। এ ঘটনায় ফয়সাল করিমের স্ত্রী, প্রেমিকা ও শ্যালককে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আহত শরিফ ওসমান হাদির চিকিৎসা চলছে এবং মামলার তদন্তে নতুন তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে ডিবি পুলিশ।


