অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ‘মুক্ত’ করতে ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্রদের সামরিক সহায়তা চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং সম্ভাব্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ সরে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
অতীত অভিজ্ঞতাই বড় কারণ
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরে সাম্প্রতিক সামরিক অভিজ্ঞতা পশ্চিমাদের এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী-এর হামলা মোকাবিলায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়েও পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।
হুথিদের হামলায় অন্তত চারটি জাহাজ ডুবে গেছে এবং বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। ফলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট—বাব আল-মান্দেব প্রণালি—এখনও ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে এবং অনেক শিপিং কোম্পানি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।
হরমুজে ঝুঁকি আরও বেশি
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি আরও জটিল। ১৯ জন নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রয়টার্স জানায়, ইরান-এর সামরিক সক্ষমতা হুথিদের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত।
বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কাছে রয়েছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, ভাসমান মাইন এবং নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো। পাশাপাশি হরমুজের সংকীর্ণ ও পাহাড়ঘেরা উপকূলীয় ভৌগোলিক অবস্থান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন করে তোলে।
১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ওই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ সুরক্ষা দেওয়া লোহিত সাগরের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।”
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কা
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জাহাজ চলাচল সুরক্ষা মিশন শুরু হয়, যেখানে পরে ইউরোপীয় দেশগুলোও যুক্ত হয়। শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পরও ২০২৪-২৫ সময়কালে হুথিরা একাধিক জাহাজে সফল হামলা চালাতে সক্ষম হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, একই ধরনের পরিস্থিতি হরমুজে সৃষ্টি হলে তা আরও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে।
উত্তেজনা কমানোর কৌশল
এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলো সরাসরি সামরিক অভিযানে না গিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের দিকে ঝুঁকেছে। তাদের আশঙ্কা, ইরানকে ঘিরে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বড় অর্থনীতিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে বড় মূল্য দিতে হবে।
ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা।


