আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রোববার (২৯ মার্চ) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে একটি মার্কিন নজরদারি বিমান ধ্বংস করেছে। তবে এ দাবি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা সৌদি কর্তৃপক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসির দাবি
ইরানের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট সামরিক সংগঠন Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানের মাধ্যমে একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি (AWACS) নজরদারি বিমান “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস” করেছে।
সংস্থাটির ভাষ্যমতে, হামলাটি সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো হয় এবং এতে আশপাশের অন্যান্য সামরিক সম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রকাশিত ছবি ও দাবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিমান কাঠামো দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আইআরজিসি-সমর্থিত সূত্রগুলো বলছে, বিমানটি ওকলাহোমার টিঙ্কার এয়ার ফোর্স বেস থেকে মোতায়েন করা হয়েছিল এবং রাডার সিস্টেম থাকা অংশে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে।
অন্যান্য হামলার দাবি
এর একদিন আগে আইআরজিসি দাবি করে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের Dubai-এ ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংরক্ষিত একটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওই দাবির ক্ষেত্রেও স্বাধীন উৎস থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রকাশিত সূত্র
প্রতিবেদনটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Press TV-এর বরাতে প্রচারিত হয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও যাচাই পরিস্থিতি
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের দাবি সামনে এসেছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সাধারণত এসব ক্ষেত্রে স্বাধীন স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ ও একাধিক উৎসের নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের United States সামরিক বাহিনী বা সৌদি আরবের Saudi Arabia কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসির এই দাবি ঘিরে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ঘটনার বাস্তবতা এখনও নিরপেক্ষ সূত্রে নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ পেলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।


