অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (Islamic Revolutionary Guard Corps) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Ali Mohammad Naini।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা Tasnim News Agency–এর এক প্রতিবেদনে তিনি দাবি করেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের দাবির জবাব
মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের নৌ-সামরিক সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এই বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে আইআরজিসি মুখপাত্র বলেন, যদি সত্যিই ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সাহস করে পারস্য উপসাগরে তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠাক।
নায়েনির ভাষায়,
“ট্রাম্প কি বলেননি যে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে? যদি তাই হয়, তাহলে সাহস থাকলে তিনি পারস্য উপসাগরে তার জাহাজ পাঠাক।”
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি
আইআরজিসি মুখপাত্র আরও দাবি করেন, চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ‘আমেরিকান এবং জায়নবাদী’ লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
তার দাবি অনুযায়ী—
-
প্রায় ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে
-
৩ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে
তবে এসব হামলার স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এখনো স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হয়নি।
‘আরও শক্তিশালী অস্ত্র’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নায়েনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের কাছে এখনও এমন অনেক উন্নত অস্ত্র রয়েছে যা এই সংঘাতে ব্যবহার করা হয়নি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে ইরান সেগুলো ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না।
কৌশলগত গুরুত্ব
বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত Strait of Hormuz দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।


