নওগাঁ প্রতিনিধি

বগুড়ার সান্তাহার জংশনে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর ট্রেনটি সান্তাহার জংশনের বাগবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকায় পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনটির অন্তত ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এ পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার জানান, বর্তমানে ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের শরীরের বিভিন্ন অংশে হাড় ভেঙেছে। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আরও প্রায় ৪০ জন চলে গেছেন।
তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীরা নিচে পড়ে আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলে রেললাইনের সংস্কার কাজ চলছিল। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে লাইনের উভয় পাশে লাল পতাকা ও সিগন্যাল দেওয়া ছিল। কিন্তু ট্রেনটি গতি কমায়নি এবং সিগন্যাল উপেক্ষা করেই ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে।
সান্তাহার স্টেশনের অধীনস্থ ওয়েম্যান সোহেল দাবি করেন, “সিগন্যাল ও লাল ব্যানার দেওয়া ছিল। এমনকি হাতের সিগন্যালও মানেনি চালক।”
এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকে পড়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন জানান, দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সহকারী স্টেশন মাস্টারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ট্রেনচালক পলাতক রয়েছেন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, “দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে রেললাইন সচল করার কাজ চলছে।”
উদ্ধার কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং লাইন স্বাভাবিক করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


