অনলাইন ডেস্ক

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়জনিত প্রবল বর্ষণ থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। টানা বর্ষণের কারণে নদী-খাল উপচে পড়া পানি অনেক অঞ্চলে হঠাৎ করেই প্লাবিত হয়। এতে এখন পর্যন্ত ৮০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩৪ জন।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের পর পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ভূমিধস দেখা দেয়। তীব্র স্রোত ও পানি বৃদ্ধি এত দ্রুত ঘটে যে কিছু এলাকায় মানুষ ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ও পাননি। মুহূর্তের মধ্যে ঘর-বাড়ি, দোকানপাট ও যানবাহন পানিতে তলিয়ে যায়। বহু ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে বর্তমানে হাজারো মানুষ গৃহহীন অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
চলমান সংকট মোকাবিলায় দেশটির সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। দ্রুতগতির নৌযান, হেলিকপ্টার ও বিশেষ উদ্ধারদল পাঠানো হয়েছে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও ত্রাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি কমে এলেও আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টা কিছু এলাকায় আরও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আকস্মিক এই বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অস্বাভাবিক আবহাওয়ারই আরেকটি দৃষ্টান্ত। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও দুর্যোগ-প্রস্তুতি জোরদার না থাকলে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার মানুষ বর্তমানে চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি। সরকার জরুরি সহায়তা তহবিল চালু করেছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে।


