
কূটনৈতিক প্রতিবেদক : বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ২০২৩ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে। এ ধারা ২০২৫ সালেও অব্যাহত রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডক্টরস উইদআউট বর্ডার্সের (এমএসএফ) বাংলাদেশের প্রতিনিধি ওরলা মারফি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার তহবিল ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, শিক্ষা ও নিরাপদ বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। এখন সময় এসেছে বিকল্প সংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজার।”
ওরলা মারফি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় জনগণ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তহবিল হ্রাসের প্রভাব সরাসরি পড়ছে নারী, শিশু ও অসুস্থ শরণার্থীদের ওপর।”
রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক সহায়তায় তহবিল ঘাটতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওরলা মারফি বলেন, পরিস্থিতি এখন যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে রোহিঙ্গাদের জন্য বিকল্প অর্থের সংস্থান খুঁজে নেওয়াটা জরুরি হয়ে গেছে। কারণ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। আবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার প্রবণতাও বন্ধ হয়নি। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। ফলে চাপ তৈরি হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি উল্লেখ করে এমএসএফের এদেশীয় প্রতিনিধি বলেন, ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে রাখাইনে এমএসএফের মানবিক সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে। আর সেখানকার সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি যা–ই হোক না কেন সেখানে মানবিক সহায়তা চালু রাখা প্রয়োজন।


