রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফিল্মিস্টাইলে এক লন্ডন প্রবাসীর ফ্ল্যাট দখলের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফ্ল্যাট মালিক লন্ডন প্রবাসী মো. মনজুর হোসেনের ভাড়াটিয়া এসএ কবির নোটন এই মামলা দায়ের করেন।
মামলায় রাজধানী গুলশানের জনৈক মোঃ নেওয়াজ আহমেদ, তার কর্মচারী মোঃ বাবলু,, মোঃ আলিম উদ্দিন, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্পোরেট হেড অফিসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ তারিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার আদালত আসামিদের মালিক ঘোষণা করেছে এমন কথা বলে রাজধানী ধানমন্ডির ১১৪ বি (পুরাতন), ৩৪/ এ (নতুন); সড়ক নম্বর ৫/এ অবস্থিত দুই হাজার ৯৭২ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে বলে আসামিরা। বাদীর স্ত্রী ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই ১৫/২০ জন লোক ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ঘরের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নামিয়ে নিয়ে যায় । ফ্ল্যাটটির মালিক লন্ডন ব্যবসায়ী মঞ্জুর হোসেন। মামলার বাদী আদালতের আদেশ দেখতে চাইলে তারা দেখাতে পারেননি। বাদীর কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকার মালামাল আসামিরা নিয়ে গেছে বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
এ সময় ফ্ল্যাটে একজন ক্যানসারের রোগী থাকলেও তারা তা কর্ণপাত করেননি। বিষয়টি অবহিত করে ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া এসএ কবির নোটন ধানমন্ডি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার।
এ বিষয়ে মো. মনজুর হোসেন বলেন, আমার অনুপস্থিতিতে ভাড়াটিয়ার সাথে যা হয়েছে তা একপ্রকার জবরদখল। আমি শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংকের বনানী শাখা ব্যাংক থেকে এক কোটি ২৬ লাখ ৮২ হাজার ৩শ ৬৩ টাকা লোন নিয়েছিলাম। ব্যাংকের তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যানের মোঃ গোলাম কুদ্দুসের কাছে ফ্ল্যাট ভাড়া বাবদ ৩৩ লাখ টাকা টাকা পাই, যা সমন্বয় করার কথা। কিন্তু ব্যাংক তা করেনি। ব্যাংক আমার সাথে প্রতারণা করেছে। এখন আমার ভাড়াটিয়ার সাথে যা হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ। অমি এ ঘটনার বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক আমার নামে একটি মামলা দায়ের করেছে। যা বর্তমান ঢাকার ৬ নম্বর অর্থঋণ আদালতে অর্থজারি মামলা নং-৪৭০২০২৫ চলমান রয়েছে। আমি মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছি। অর্থঋণ আদালতের মামলার কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। সুপ্রিম কোর্টে রিট পেন্ডিং রয়েছে। এখন ব্যাংকের লোক পরিচয় দিয়ে আমার বাসার ভাড়াটিয়ার লাখ লাখ টাকার জিনিসপত্র নিয়ে গেছে আসামিরা।


