লাইফস্টাইল ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাসে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দাঁতের যত্নও বিশেষ গুরুত্ব পায়। রোজা রাখার কারণে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকায় মুখে জীবাণু জমতে পারে, যা দাঁতের ক্ষয় ও দুর্গন্ধের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা রমজানে দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় কিছু বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
ইফতার ও সাহরির পর দাঁত ব্রাশ
দুই বেলা খাবারের পর দাঁত ব্রাশ করা অত্যন্ত জরুরি। ইফতার ও সাহরির পর পেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করতে হবে। যদি ইফতারের সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করা সম্ভব না হয়, রাতের প্রধান খাবারের পরে দাঁত পরিষ্কার করা উচিত। সাহরির পরে ফজরের নামাজের অজুর আগে দাঁত ব্রাশ করলে মুখে জীবাণু কমে যায় এবং দীর্ঘ সময় রোজা রাখলেও মুখ সুগন্ধি থাকে।
মিসওয়াক ও অজুর গুরুত্ব
রোজার সময় মিসওয়াক ব্যবহার করা যায়। নামাজের অজুর সময় কুলির মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার হয়, যা দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। প্রতিটি অজুর সময় মিসওয়াক ব্যবহার করা যেতে পারে।
সকালে মুখে দুর্গন্ধ হলে
রোজা রেখে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখে দুর্গন্ধ থাকলে সামান্য পানি দিয়ে কুলি করা যেতে পারে, এতে রোজা ভাঙবে না। তবে কুলির পানি অবশ্যই গলতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে পেস্ট ছাড়া ব্রাশ ব্যবহার করে মুখ পরিষ্কার করা যায়। রোজা অবস্থায় মাউথওয়াশ ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো।
খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা
ইফতার থেকে সাহরির মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। শরবতে ইসুবগুলের ভুসি মেশালে হজম ভালো থাকে। তেলযুক্ত খাবার কম খেয়ে শাকসবজি বেশি খাওয়া উচিত। শাকের আঁশ দাঁত পরিষ্কার রাখতে সহায়ক এবং এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও থাকে।
যা এড়িয়ে চলবেন
কয়লা, ছাই বা দাঁতের পাউডার ব্যবহার করা যাবে না। গুল বা তামাক সেবন থেকে বিরত থাকা উচিত। ধুমপান মুখের দুর্গন্ধ বৃদ্ধি করে, তাই রমজানে তা সম্পূর্ণ পরিহার করা উত্তম।
বিশেষজ্ঞরা মনে করান, নিয়মিত ব্রাশ, মিসওয়াক ব্যবহার এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে রমজান মাসে দাঁতের স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব।


