
ভারত উপ-মহাদেশে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন, হযরত মাওলানা আবদুল আজিজ (র)। শুরুতে যুদ্ধের নেতৃত্ব মুসলমানদের হাতেই ছিল। কিন্তু ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে দেওবন্দ দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, ১৯২৬ সালে তাবলীগ জামায়াত সৃষ্টি এবং ১৯৪১ সালে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম মুজাহিদরা দুর্বল হয়ে পড়ে। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মুসলিম মুজাহিদদের ঐক্যবদ্ধ সামরিক শক্তি। এর ফলে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব চলে যায় করমচাঁন্দ মহাত্মা গান্ধির হাতে।
১৯২০ খ্রিস্টাব্দ থেকে মহাত্মা গান্ধির অসহযোগ আন্দোলন, লবন সত্যাগ্রহ আন্দোলন এবং ভারতছাড় আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতবর্ষ স্বাধীনতালাভ করে। এ কারণে দেশ বিভাগের সময় মুসলমানরা তাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়। ১২শ’ মাইল দূরত্বের দুটি ভূখন্ডের পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় মুসলিম জাতির।
ভারতবর্ষের মুসলমানদের যৌক্তিক ছিল, মহানবী হযরত মুহম্মদ (স) এর পদাঙ্ক অনুসরণ করা। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী রসুলে করিম (স) মদিনায় হিজরত করে প্রথমে মদিনার ইয়াহুদি, খ্রিস্টান, মুসলমান ও পৌত্তলিকদের চুক্তির বন্ধনে আবদ্ধ এবং মদিনাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে মদিনার গৃহযুদ্ধের অবসান করেছিলেন। অতপর এই চুক্তির আলোকে “মদিনা সনদ” নামক শাসনতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন।
মদিনা সনদ পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান এবং পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সংবিধান। নবীজি মদিনা সনদের আলোকে মদিনা রাষ্ট্র গঠন করেছিলেন। অতপর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে গণভোটের মাধ্যমে মদিনা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ঠিক একইভাবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সংবিধান পরিহার করে মদিনা সনদের আলোকে সমগ্র ভারতবাসীকে চুক্তির বন্ধনে আবদ্ধ করা একান্ত আবশ্যক ছিল। ভারতবর্ষের জাতি, ধর্ম, বর্ণ-নির্বিশেষে সকল মানুষকে নিয়ে “ইউনাইটেড স্টেট অব ইন্ডয়া” গঠনের মধ্য দিয়ে ভারতের সকল জনগোষ্ঠীর ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দেওয়া দরকার ছিল।
এটা করা হলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ছোট ছোট দেশগুলোকে নিয়ে বিশ্বের পরাশক্তির দেশগুলি যে ইদুর-বিড়াল খেলা খেলছে, আমাদের সার্বভৌত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, এসব অনৈতিক কর্মকান্ড তারা করতে পারত না। ইউনাইটেডস্টেট অব ইন্ডয়া হতো বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তির দেশ।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


