
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার ভোরে ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। ইরানের রাজধানী তেহরানসহ পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা তাদের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় সামরিক ফ্লাইওভার’ পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং পশ্চিম ও মধ্য ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়।
৫০০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের দাবি
সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে শত শত গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে প্রায় ৫০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনা। হামলাগুলো প্রায় একই সময়ে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়, যাতে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দ্রুত অকার্যকর করা যায়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আঘাত হানার ফলে দেশটির আকাশসীমায় তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো ধ্বংসের মাধ্যমে ইরানি শাসনের কেন্দ্রীয় আক্রমণ সক্ষমতায় গুরুতর আঘাত হানা হয়েছে।
তাবরিজে ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু
আইডিএফ আরও দাবি করেছে, পশ্চিম ইরানের তাবরিজ এলাকায় একটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কেন্দ্র থেকে ইসরায়েলের দিকে ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরিকল্পনা ছিল।
উচ্চমানের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উচ্চমানের গোয়েন্দা তথ্য ও দীর্ঘ পরিকল্পনার ভিত্তিতে শত শত বিমান একযোগে সমন্বয় করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারের সমন্বিত হামলা।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।
পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঘটনাটির দিকে গভীর নজর রাখছে।


