অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গল গ্রহের শুষ্ক ও ঠান্ডা চেহারা এখন যেমন মনে হয়, কোটি কোটি বছর আগে সেখানে পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক টিমোথি গাউডজ ও তার দল সম্প্রতি মঙ্গলের প্রাচীন নদী ও জলাধারের একটি বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করেছেন। এই মানচিত্র প্রমাণ করে, একসময় মঙ্গলে বিশাল নদী এবং নিয়মিত পানি প্রবাহ ছিল।
গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাচীন মঙ্গলে পানি পাহাড় কেটে উপত্যকা তৈরি করেছে, গর্ত ভরেছে এবং বড় বড় খাত সৃষ্টি করেছে। যদিও আগে থেকেই শুকনো নদীর চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল, নদীগুলোর একে অপরের সঙ্গে সংযোগ কেমন ছিল তা স্পষ্ট ছিল না। গাউডজের দল কয়েক দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং নাসার মার্স ওডিসি মহাকাশযানের তথ্য ব্যবহার করে এই মানচিত্র তৈরি করেছেন। মার্স ওডিসি মঙ্গলের ৯০ শতাংশের বেশি পৃষ্ঠের মানচিত্র তৈরি করেছে, যা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাচীন মঙ্গলে অনেক ছোট নদী থাকলেও অন্তত ১৬টি বিশাল নদী অববাহিকা (বিস্তৃত নদীপথ) ছিল। প্রতিটি অববাহিকার আয়তন ছিল কমপক্ষে ৩৮ হাজার বর্গমাইল। সব মিলিয়ে এই নদীগুলো মঙ্গলের প্রাচীন পৃষ্ঠের প্রায় ৫ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। সময়ের সঙ্গে ক্ষয়ের কারণে অনেক নদীর চিহ্ন মুছে গেছে, তাই প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, পৃথিবীর বড় নদীগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের পাথরের সংস্পর্শে থাকে, যা জীবনের জন্য উপযোগী রাসায়নিক পরিবেশ তৈরি করে। একইভাবে, মঙ্গলের এই বিশাল নদীগুলোতেও অতীতে জীবনের উপাদান তৈরি বা সংরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন মানচিত্রটি ভবিষ্যৎ মঙ্গল অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে সেই স্থানগুলোর নির্ধারণে সহায়ক হবে যেখানে জীবনের রাসায়নিক চিহ্ন খোঁজা হবে বা মাটি সংগ্রহ করে পৃথিবীতে আনার পরিকল্পনা থাকবে।
গবেষণাটি ২৪ নভেম্বর ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।


