অনলাইন ডেস্ক

ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুতের দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে দেশটির মাটির নিচে রয়েছে তেলের বাইরে আরও বিপুল সম্পদ — খনিজ, প্রাকৃতিক গ্যাস, সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতে সমৃদ্ধ।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধার ও খনিশিল্প সম্প্রসারণে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, “ভেনেজুয়েলার আছে ইস্পাত, খনিজসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ। যদিও দেশটির খনিশিল্পের ইতিহাস সমৃদ্ধ, দীর্ঘদিন ধরে এটি অবহেলিত।”
ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেলের মজুত প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের পাঁচগুণেরও বেশি। প্রধান তেলভান্ডার অরিনোকো বেল্টে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেত্রোলিওস দে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে অতি ভারী তেল উত্তোলন ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় তা তুলনামূলকভাবে কম দামে বিক্রি হয়।
এক সময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল দেশের প্রধান তেল ক্রেতা। বর্তমানে চীন ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা; ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রপ্তানিকৃত তেলের ৮১.৭ শতাংশ চীনে গেছে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের দিক থেকে ভেনেজুয়েলা বিশ্বে নবম স্থানে রয়েছে। দেশটির গ্যাস মজুত প্রায় ৫.৫ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার, যা দক্ষিণ আমেরিকার মোট গ্যাস মজুতের বড় অংশ।
স্বর্ণসম্পদের দিক থেকেও দেশটি লাতিন আমেরিকার শীর্ষে; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রয়েছে প্রায় ১৬১.২ টন স্বর্ণ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৬৪৪ টন স্বর্ণের মজুত আছে, তবে প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
তেল ও স্বর্ণের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার মাটির নিচে রয়েছে কয়লা, লৌহ আকরিক, নিকেল, বক্সাইট, কোলটান এবং হীরার বিপুল মজুত। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এই সম্পদের বড় অংশ এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।


