অনলাইন ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার উপকূলবর্তী পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাছ ধরার একটি নৌকায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘটিত হয়েছে এবং এটি মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানায়, নিহতরা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ধ্বংস হওয়া নৌকাটি সরাসরি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে বুধবার একই এলাকায় চালানো পৃথক বিমান হামলায় আরও চারজন নিহত হন। সাউথকমের দাবি, ওই অভিযানে নিহত ব্যক্তিরাও ‘মাদক সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত। যদিও সংশ্লিষ্ট নৌযানটির বিরুদ্ধে মাদক পাচারের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুতগতির একটি নৌযানকে লক্ষ্য করে আকাশ থেকে হামলা চালানো হলে সেটি মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়। সাউথকম জানায়, নৌযানটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পরিচিত একটি মাদক পাচার রুটে চলাচল করছিল এবং অপরাধমূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিল।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে এসব সামরিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাউথকমের তথ্যমতে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে পরিচালিত মার্কিন অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪ জনে।
তবে আন্তর্জাতিক আইনি বিশেষজ্ঞরা এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো স্বচ্ছ তদন্ত বা প্রমাণ ছাড়াই প্রাণঘাতী হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবাহ ঠেকাতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি ভেনেজুয়েলাভিত্তিক মাদক কার্টেলগুলোকেই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন।
সূত্র: মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম)


