অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা/ইসলামাবাদ, ১৯ ডিসেম্বর: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তান ভূখণ্ডে চালানো সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং কোটি কোটি মানুষের মানবাধিকারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা ১৬ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে ভারতকে সমালোচনা করেছেন, যা ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে পাঁচজন জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিউর এবং একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং এর আইনি ও মানবিক প্রভাব পর্যালোচনা করেছেন।
“সীমান্ত অতিক্রম করা ও একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন”
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ভারতের আচরণ জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং চুক্তিভিত্তিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে সামরিক হামলা এবং একতরফাভাবে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গভীর উদ্বেগের কারণ।
তারা আরও সতর্ক করেছেন, ভারত অপারেশন সিঁদুর নামে পাকিস্তানের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে। যদিও ভারতের দাবি অনুযায়ী ডজনখানেক মানুষ নিহত হয়েছেন, তবে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলেছেন, পেহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ ভারত উপস্থাপন করতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্রগুলো নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার অধিকার রাখে, তবে সীমান্ত অতিক্রম করে সামরিক বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা এ ক্ষেত্রে পালন হয়নি।
সিন্ধু পানি চুক্তির স্থগিত ঘোষণা নিয়ে উদ্বেগ
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা ভারতের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণার ওপরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ছয়টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম স্থিতিশীল পানি বণ্টন চুক্তি হিসেবে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুক্তির বাস্তবায়নে বিঘ্ন পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষের পানীয় জল, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
তারা জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক পানি চুক্তি আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করে। নির্ধারিত বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার বাইরে একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত করা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর আইনের শাসনকে দুর্বল করে।
প্রতিবেদনটি যৌথভাবে জাতিসংঘের একাধিক বিশেষ র্যাপোর্টিউর এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্রকাশ করেছেন, যারা সন্ত্রাসবাদ দমন ও মানবাধিকার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রসারের দায়িত্বে রয়েছেন।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ডন নিউজ, পাকিস্তান টুডে


