অনলাইন ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ফিলিপাইনে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে বিপুল সংখ্যক মানুষকে সড়কের পাশে হাঁটতে দেখা গেলেও, স্থানীয়রা বলছেন—এটি সরাসরি জ্বালানি সংকটে মানুষের হেঁটে কাজে যাওয়ার চিত্র নয়।
ভিডিওটি ২৫ মার্চ Quezon City-এর কমনওয়েলথ অ্যাভিনিউ এলাকায় ধারণ করা। একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, গ্যাস সংকটের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে হেঁটে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। তবে স্থানীয় ব্যবহারকারী ও গণমাধ্যম এই দাবিকে ভুল বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্যস্ত সময়ে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। অনেক সময় বাস ও এফএক্স (শেয়ারড ভ্যান) পূর্ণ থাকায় যাত্রীরা সড়কের পাশে হাঁটেন বা খালি যানবাহনের খোঁজে বিপরীত দিকে এগিয়ে যান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ভিডিওতে দেখা মানুষগুলো মূলত যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন, তারা হেঁটে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন—এমন দাবি সঠিক নয়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে জ্বালানি সংকটের কোনো প্রভাব নেই। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জ্বালানি অস্থিরতার প্রভাবে ফিলিপাইনে তেলের দাম বেড়েছে, যার ফলে পরিবহন খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক চালক নিয়মিত সেবা দিতে পারছেন না, এতে Metro Manila-জুড়ে গণপরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে পরিবহন শ্রমিকদের চলমান ধর্মঘট। প্রায় ২০টি পরিবহন সংগঠন ২৬ থেকে ২৭ মার্চ দেশব্যাপী ধর্মঘট পালন করছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জ্বালানির মূল্য হ্রাস, কর প্রত্যাহার এবং ভাড়া সমন্বয়।
রাজধানী Manila-তে শত শত চালক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। একজন চালক জানান, আয় কমে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভাইরাল ভিডিওটি বাস্তব পরিস্থিতির একটি আংশিক প্রতিফলন হলেও এর ব্যাখ্যা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ফিলিপাইনে জ্বালানি সংকটের প্রভাব থাকলেও, মানুষ ব্যাপকভাবে হেঁটে কাজে যাচ্ছেন—এমন দাবি সঠিক নয়; বরং গণপরিবহন সংকট ও ভিড়ই ভিডিওটির মূল প্রেক্ষাপট।


