অনলাইন ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকভাবে ধীরগতির ইনিংস খেলায় সমালোচনার মুখে আছেন Babar Azam। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২৪ বলে ২৫ রান করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান।
ভনের বিস্ফোরক মন্তব্য
বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক Michael Vaughan। তার দাবি, পাকিস্তান ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণেই বাবরকে দল থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। আর সে কারণেই কোচ Mike Hesson তাকে ‘ইন্স্যুরেন্স পলিসি’ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ক্রিকবাজে আলোচনায় ভন বলেন, পাকিস্তানে বিদেশি কোচদের কাজ করা সহজ নয়। বাবরকে খেলাতেই হবে—এই বাস্তবতা হেসন ভালোভাবেই সামলাচ্ছেন। তার মতে, দ্রুত দুই উইকেট পড়ে গেলে বাবর চার নম্বরে নেমে ইনিংস ধরে রাখার ভূমিকা পালন করতে পারেন।
পরিসংখ্যানে পিছিয়ে বাবর
চলতি বিশ্বকাপে চার ইনিংসে বাবরের সংগ্রহ ৯১ রান, স্ট্রাইক রেট ১১২.৩৪। অন্তত ৭৫ রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার স্ট্রাইক রেট সবচেয়ে কম। রান সংগ্রাহকদের তালিকাতেও তিনি অনেক নিচে অবস্থান করছেন।
ভনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার ধীরগতির উইকেটে ১৫০-১৮০ রানের ম্যাচে বাবর কার্যকর হতে পারেন। তার ভাষ্য, ১৬০-১৭০ রানের ম্যাচে তিনি অবদান রাখতে পারেন, কিন্তু ২০০ বা তার বেশি রানের ম্যাচে আগের মতো প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন না।
পাল্লেকেলেতে হতাশা
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে পাকিস্তান তোলে ১৬৪ রান। উইকেটে বল কিছুটা গ্রিপ করলেও বাবর খেলেন ১০৪.১৬ স্ট্রাইক রেটে—যা ভনের প্রত্যাশিত ১২৫-১৩০ স্ট্রাইক রেটের ধারেকাছেও নয়।
ম্যাচটি হেরে সেমিফাইনালের দুয়ারে কার্যত বিদায়ের মুখে পড়ে পাকিস্তান। অন্যদিকে জয় নিশ্চিত করে শেষ চারে জায়গা করে নেয় ইংল্যান্ড। ফলে বাবরকে ঘিরে বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
সামনে কী?
বাবরের অভিজ্ঞতা ও টেকনিক নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে টি-টোয়েন্টির দ্রুতগতির ক্রিকেটে তার ভূমিকা ও ব্যাটিং পজিশন নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। দলীয় কৌশল, উইকেটের ধরন এবং ম্যাচ পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য এটি বড় এক সমীকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, পুরো ব্যাটিং ইউনিটকেই ছন্দে ফিরতে হবে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


