অনলাইন ভার্সন

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম দ্বীপ সুমাত্রায় অবিরাম প্রবল বৃষ্টিপাতে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। টানা বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে দ্বীপটির বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
প্রশাসন জানায়, সুমাত্রার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এখনো পুরোপুরি পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতায় সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা বহু এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক পরিবার বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে উদ্ধারকারীদের অপেক্ষায় অবস্থান করছেন।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমাতে সরকার কৃত্রিম পদ্ধতিতে বৃষ্টি কমানো বা থামানোর উদ্যোগ নিয়েছে। টেকনোলজি অ্যামপ্লিফায়েড ওয়েদার মডিফিকেশন নামে পরিচিত এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি তৈরির বা থামানোর জন্য বিশেষ রাসায়নিক ছড়িয়ে মেঘের গঠন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এতে অন্তত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ দ্রুততর করা সম্ভব হবে।
এদিকে মানবিক সহায়তার অভাব ও খাদ্যসংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের মানুষরা। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বন্যাপ্রবাহ কমলে এবং আবহাওয়া কিছুটা উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দূরবর্তী এলাকাগুলোতে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হবে।
ইন্দোনেশিয়ায় বর্ষাকালে ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসের প্রবণতা স্বাভাবিক হলেও এ বছরের বৃষ্টিপাত অতীত বছরের তুলনায় আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী—যা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবকেই ইঙ্গিত করে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


